কনফুসিয়াসের Analects থেকে ১০০টি অনন্য শিক্ষা
নেতৃত্ব ও শাসন (১–১৫)
-
শাস্তি দিয়ে নয়, নৈতিকতা দিয়ে শাসন করো — মানুষ ঘাসের মতো বাঁকবে বাতাসে।
-
শাসক যদি সৎ হয়, মানুষ কোনো নির্দেশ ছাড়াই অনুসরণ করবে।
-
শাসকই রাষ্ট্রের নৈতিক দিকনির্দেশক।
-
শাসন হলো উত্তর তারকার মতো — স্থির থাকলে সব ঘুরে আসে।
-
যে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সে অন্যকেও শাসন করতে পারে না।
-
সঠিক নামকরণই শাসনের মূল।
-
অতিরিক্ত আইন মানে নৈতিকতার অভাব।
-
শাসককে সৎ ও জ্ঞানীদের কাছে টানতে হবে, চাটুকারদের নয়।
-
বিশ্বাস ছাড়া রাষ্ট্র টিকে না।
-
গুণই হলো কর্তৃত্বের ভিত্তি।
-
মানুষকে সমৃদ্ধ করলেও শিক্ষা না দিলে তারা অশিক্ষিতই থেকে যাবে।
-
কোমল শাসন শান্তি আনে, কঠোর শাসন কৌশল আনে।
-
নির্দেশ নয়, উদাহরণ দিয়ে নেতৃত্ব দাও।
-
নৈতিক শাসক পেলে মানুষ বিশ্বস্ত হয়।
-
সর্বোত্তম শাসক ঐক্য চায়, একরূপতা নয়।
নৈতিকতা ও চরিত্র (১৬–৩০)
-
গুণ একা থাকে না, এটি সঙ্গ আনে।
-
মহৎ মানুষ গুণকে ভালোবাসে, ক্ষুদ্র মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যকে।
-
যে মানুষের কথা কাজে বেশি, সে লজ্জাজনক।
-
গুণী ব্যক্তি সবসময় বিশ্বাস অর্জন করে।
-
মহৎ মানুষ নিজেকে দেখে, ক্ষুদ্র মানুষ অন্যকে।
-
ছোট কাজে গুণ দেখানোই আসল গুণ।
-
সঠিক জেনে না করা মানে কাপুরুষতা।
-
সততা ছাড়া কেউ টিকে না।
-
মহৎ মানুষ খাদ্যে বিলাসিতা করে না, ঘরে আড়ম্বর করে না।
-
অন্যায়ভাবে পাওয়া ধন-সম্মান মেঘের মতো ভাসমান।
-
বিপদে মহৎ মানুষ দৃঢ়, ক্ষুদ্র মানুষ ভেঙে পড়ে।
-
জ্ঞানী জলে আনন্দ পায়, গুণী পাহাড়ে।
-
গুণ হাওয়ার মতো, দোষ ঘাসের মতো।
-
কষ্ট পাওয়া তেমন নয়, মনে রাখা খারাপ।
-
সর্বোচ্চ গুণ হলো সবার মঙ্গল চাওয়া।
শিক্ষা ও জ্ঞান (৩১–৪৫)
-
শেখা আর নিয়মিত অনুশীলন — এটিই আনন্দ।
-
পুরোনো জ্ঞান পুনরায় খুঁজে নতুন শেখা — এটাই শিক্ষকের যোগ্যতা।
-
শেখা কিন্তু না ভাবা মানে পরিশ্রম বৃথা।
-
ভাবা কিন্তু না শেখা মানে বিপদ।
-
জ্ঞানী বিভ্রান্ত হয় না, গুণী চিন্তিত হয় না।
-
মহৎ মানুষ সংস্কৃতিতে বিস্তৃত হয়, রীতিতে সীমাবদ্ধ হয়।
-
শিক্ষা আস্থা আনে; আস্থা আনুগত্য আনে।
-
শিক্ষা ছাড়া চিন্তা অন্ধকার; চিন্তা ছাড়া শিক্ষা অলসতা।
-
মহৎ মানুষ প্রতিযোগিতা করে না, উন্নতি করে।
-
শিক্ষককেও শিখতে হবে অবিরত।
-
মহৎ মানুষ পাত্র নয় — কেবল এক কাজে সীমাবদ্ধ নয়।
-
জানার ভান না করে প্রশ্ন করো।
-
লজ্জা পেয়ে প্রশ্ন না করলে শেখা যাবে না।
-
শেখা কিন্তু কাজে না লাগানো মানে জমি চাষ করে বীজ না বোনা।
-
শিক্ষা হলো জীবনের পথ।
রীতি ও সামাজিক ঐক্য (৪৬–৬০)
-
রীতিই সমাজকে বেঁধে রাখে।
-
রীতি ছাড়া সম্মান ক্লান্তি আনে।
-
রীতিতে মিতব্যয়িতা আড়ম্বরের চেয়ে ভালো।
-
আন্তরিকতা ছাড়া রীতি শূন্য।
-
মহৎ মানুষ রীতিকে আড়ম্বর নয়, মূল বলে মানে।
-
পূজা দাও যেন আত্মারা উপস্থিত আছে।
-
শোকে রূপ নয়, অনুভূতিই আসল।
-
ঐক্য চাই, একরূপতা নয়।
-
রীতির মানে অর্থ, বিলাসিতা নয়।
-
অতিরিক্ততা যেমন ভুল, অবহেলাও তেমন।
-
রীতির মর্ম হলো শ্রদ্ধা।
-
সঙ্গীত হৃদয়কে শুদ্ধ করে, রীতি আচরণ গড়ে।
-
গুণ ছাড়া রীতি ফাঁকা।
-
সরলতায় আন্তরিকতাই শ্রেষ্ঠ।
-
রীতিভিত্তিক রাষ্ট্র শান্তিতে টিকে।
বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক (৬১–৭৫)
-
সমান মর্যাদার মানুষকেই বন্ধু করো।
-
গুণী মানুষ দেখলে নিজেকে বদলাও।
-
অধঃপতিত মানুষ দেখলে নিজেকে পরখ করো।
-
মহৎ মানুষ কথা ধীরে বলে, কাজে দ্রুত।
-
অন্যরা তোমাকে না জানলে কষ্ট নয়; তুমি অন্যকে না জানলে কষ্ট।
-
সত্যিকারের বন্ধু বিপদে পাশে দাঁড়ায়।
-
প্রশংসা না পাওয়া নিয়ে নয়, যোগ্য হওয়া নিয়ে ভাবো।
-
আসল বন্ধু সৎ কথা বলে, আঘাত লাগলেও।
-
নীতিহীন ঐক্য নয়।
-
বৃদ্ধকে সম্মান, ছোটদের যত্ন।
-
বন্ধু বেছে নাও — সৎ, সত্যবাদী ও জ্ঞানী।
-
গুণহীন বন্ধুর চেয়ে একা থাকা ভালো।
-
ভালো মানুষ একে অপরকে উঁচু করে, খারাপ মানুষ নিচে নামায়।
-
সমাজে অন্যকে দেখো, একাকী নিজেকে বিচার করো।
-
ভদ্রতা সম্পর্কের ভিত্তি।
আত্মসংস্কার (৭৬–৮৫)
-
মহৎ মানুষ আগে নিজে করে, পরে শেখায়।
-
মূল মজবুত করলে শাখা-প্রশাখা টিকে।
-
নিজেকে জয় করা সর্বোচ্চ জয়।
-
প্রতিদিন তিনটি বিষয় ভেবে দেখো: কর্তব্য, বিশ্বাস, শিক্ষা।
-
আত্মসংযম স্বাধীনতার পথ।
-
মহৎ মানুষ মর্যাদাপূর্ণ কিন্তু অহংকারী নয়; বিনয়ী কিন্তু দাসসুলভ নয়।
-
রাগ দমন করলে বহু অনুতাপ এড়ানো যায়।
-
মহৎ মানুষ শান্ত, ক্ষুদ্র মানুষ অস্থির।
-
নিজেকে জানা মানেই জ্ঞান।
-
অন্যকে শাসনের আগে নিজেকে গড়ো।
কথা ও আচরণ (৮৬–৯৫)
-
মিষ্টি কথা ও ভণিতা গুণের লক্ষণ নয়।
-
মহৎ মানুষ কথায় সংযমী, কাজে সমৃদ্ধ।
-
লজ্জাহীন কথা মানুষকে ধ্বংস করে।
-
সত্য বলো, কিন্তু কঠোর নয়।
-
কথার সাথে কাজ মিলতে হবে।
-
অযথা বলার চেয়ে নীরবতা ভালো।
-
হালকা প্রতিশ্রুতি আস্থা নষ্ট করে।
-
গুজব ঐক্য ভাঙে।
-
মহৎ মানুষ ধীরে বলে, দ্রুত করে।
-
আচরণই চরিত্রের আয়না।
সমাজ ও শৃঙ্খলা (৯৬–১০৫)
-
বিশ্বাস ছাড়া সমাজ ভেঙে পড়ে।
-
সম্মানহীন পরিবার ধ্বংস হয়।
-
রাষ্ট্রের শক্তি তার জনগণের গুণে।
-
কৃষকরাই রাষ্ট্রের ভিত্তি।
-
সমাজ সঠিক করতে নাম ঠিক করা জরুরি।
-
যে সমাজে প্রবীণদের সম্মান করা হয়, তা টিকে।
-
পরিবারের শৃঙ্খলা রাষ্ট্রে ছড়ায়।
-
বিশৃঙ্খল সমাজ বিশৃঙ্খল শাসকের প্রতিফলন।
-
শিক্ষা জাতির শক্তির মূল।
-
গুণ ছাড়া সেনাবাহিনীও রাষ্ট্র বাঁচাতে পারে না।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার (১০৬–১১৫)
-
মহৎ মানুষ মৃত্যু মনে রেখে জরুরি কাজ করে।
-
মৃত্যুকে নয়, অসম্মানকে ভয় করো।
-
শোকে রূপ নয়, আন্তরিকতাই আসল।
-
ন্যায়ের জন্য মরাই অনন্ত জীবন।
-
গুণী মানুষ সুগন্ধ রেখে যায়, দুর্নীতিগ্রস্ত দুর্গন্ধ।
-
সম্মানিত মৃত্যু অপমানিত জীবনের চেয়ে ভালো।
-
মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী, গুণ অমর।
-
পিতৃ-মাতৃ ভক্তি মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকে।
-
শোক আমাদের জীবিতদের প্রতি কর্তব্য মনে করায়।
-
সম্মান নিয়ে স্মরণ হওয়া অসম্মানিত জীবনের চেয়ে শ্রেয়।
চিরন্তন জ্ঞান (১১৬–১৩০)
-
যা তুমি নিজের জন্য চাও না, তা অন্যকে করো না।
-
নৈতিকতা ছাড়া শিক্ষা বিপজ্জনক।
-
মহৎ মানুষ ঐক্য চায়, একরূপতা নয়।
-
মহৎ মানুষ তিনটি জিনিসকে ভয় করে: আকাশ, মহৎ মানুষ, জ্ঞানীদের বাণী।
-
জানা ভালো, ভালোবাসা তার চেয়ে ভালো, আনন্দ নেওয়া সর্বোত্তম।
-
মহৎ মানুষ খাদ্যে নয়, গুণে চিন্তিত।
-
নিজেকে সম্মান করো, অন্যরা সম্মান করবে।
-
নেতা হতে হলে ধীরে রাগ করো, দ্রুত ক্ষমা করো।
-
মহৎ মানুষ দৃঢ়, স্থির, কিন্তু কোমল।
-
সংস্কৃতি ছাড়া রাষ্ট্র টিকে না।
-
ক্ষুদ্র মানুষ অন্যের প্রতি কঠোর, নিজের প্রতি সহজ; মহৎ মানুষ বিপরীত।
-
সত্যিকারের মহত্ত্ব অন্তরে, বংশে নয়।
-
পিতৃ-মাতৃ ভক্তি গুণের মূল।
-
মহৎ মানুষ উৎকর্ষ চায়, পরিপূর্ণতা নয়।
-
সর্বোচ্চ জ্ঞান হলো স্বর্গের সাথে মিল রেখে মানবকল্যাণ করা।
No comments:
Post a Comment